থ্যালাসেমিয়া রোগীর জীবনযাপন | ভবিষ্যৎ ও বর্তমান

থ্যালাসেমিয়া রোগীর জীবনযাপন
Share With

থ্যালাসেমিয়া রোগীর জীবনযাপন সত্যিই কষ্টকর। তবে আধুনিক চিকিৎসার কল্যাণে এ কষ্ট অনেকটাই লাঘব করা যায়। থ্যালাসেমিয়া একটি আজীবনের রোগ । সুতরাং সারা জীবন এ রোগের চিকিৎসা চালাতে হবে । তবে রোগের তীব্রতা, লক্ষণ ও বয়স অনুসারে বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসার ধরনে পরিবর্তন হতে পারে ।

রক্ত পরিসঞ্চালন পদ্ধাতির উন্নতি ও লৌহ নিষ্কাশক (Iron Chelator) ঔষধ আবিষ্কারের ফলে গত কয়েক বছরে এ রোগ  চিকিৎসায় অনেক উন্নতি হয়েছে । নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চললে রোগীরা প্রায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন এবং বর্তমানে উন্নত বিশ্বে অনেকে ৫০-৬০ বছর পর্যন্ত বেঁচে আছেন । বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থেকে সংসার সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন । বাংলাদেশ ৩০-৪৫ বছর বয়স্ক থ্যালাসেমিয়া মেজর এবং ৭০ বছর বয়স্ক থ্যালাসেমিয়া ইন্টামেডিয়া রোগীর উদাহরন রয়েছে ।

[irp]

থ্যালাসেমিয়া মেজর হলে ক্রমাগত মাসিক রক্ত নিতে হবে। প্রতি ব্যাগ রক্তের সঙ্গে শরীরে জমা হয় আয়রন। ঘরে বসে কীভাবে প্রতি রাতে আয়রন চিলেশন করা যায় সেটা শিখে নিতে হবে। তাহলে ক্রমাগত রক্ত গ্রহণের ফলে ত্বকে বা বিভিন্ন অঙ্গে আয়রন জমা হয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারবে না। সম্ভব হলে অস্থিমজ্জা পরিবর্তন এবং জেনেটিক কাউন্সিলিং করতে হবে।

থ্যালাসেমিয়া রোগীর ভবিষ্যৎ

জীবনযাপন পদ্ধতি ডাক্তারের নির্দেশনা ছাড়া আয়রনযুক্ত ওষুধ, ভিটামিন বা অন্য কোনো ওষুধ খাওয়া যাবে না। সুষম ও পুষ্টিকর খাবার বিশেষ করে ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। সংক্রমণ এড়ানোর জন্য বারবার হাত পরিষ্কার করতে হবে এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকতে হবে। বিভিন্ন সংক্রমণ এড়াবার জন্য বিভিন্ন রোগের টিকা (বিশেষ করে হেপাটাইটিস বি) নিয়ে রাখতে হবে। 

থ্যালাসেমিয়া রোগীর জীবনযাপন সহজ করতে নিয়মিত যা করণীয়:

  •   নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করানো।
  •   রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ১০ গ্রাম বা ডেসিলিটার রাখার চেষ্টা করতে হবে।
  •   হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের টিকা নেওয়া।
  •   শিশুরোগীর ক্ষেত্রে প্রতি তিন মাস অন্তর উচ্চতা, ওজন, লিভার ফাংশন পরীক্ষা করা।
  •   আট থেকে ১০ ব্যাগ রক্ত দেওয়ার পর রক্তে লৌহের পরিমাণ নির্ণয় করতে হবে।
  •   শিশুর প্রতিবছর বুদ্ধি ও বিকাশ পর্যবেক্ষণ করা।
  •  রক্তে লৌহের মাত্রা এক হাজার ন্যানো গ্রাম বা মিলি লিটারের ওপরে হলে চিকিত্সকের শরণাপন্ন হওয়া।
  •   বিশুদ্ধ রক্ত পরিসঞ্চালন নিশ্চিত করা।

[irp]

থ্যালাসেমিয়া রোগীদের খাবার

মানুষের জীবনযাপনে খাবার একটি অন্যতম নিয়ামক ।  রোগীর জীবনযাপন সহজ করতে খাবারের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে । যেকোন সাধারণ মানুষের মত থ্যালাসেমিক রোগীদের সুষম খাদ্য খাওয়া উচিত । যার মাধ্যমে পর্যাপ্ত আমিষ, শর্করা, চর্বি, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ (বিশেষ করে ক্যালসিয়াম ও জিঙ্ক) রয়েছে । প্রতিবার খাদ্যগ্রহনের পরপরই এক কাপ চা খাওয়া উচিত যার ফলে অন্ত্রে আয়রনের শোষন কম হয় । অধিক আযরনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহন থেকে বিরত থাকা উচিত । যেমন-

মাংস- বিশেষ করে গরু, খাসি, মহিষের মাংস এবং যেকোন কলিজা

আয়রন সমৃদ্ধ শাকসবজি যেমন- কলা, কচু, পাটশাক, লালশাক, পুইশাক ইত্যাদি।

 

Summary
থ্যালাসেমিয়া রোগীর জীবনযাপন | ভবিষ্যৎ ও বর্তমান
Article Name
থ্যালাসেমিয়া রোগীর জীবনযাপন | ভবিষ্যৎ ও বর্তমান
Description
থ্যালাসেমিয়া রোগীর জীবনযাপন সত্যিই কষ্টকর। তবে আধুনিক চিকিৎসার কল্যাণে এ কষ্ট অনেকটাই লাঘব করা যায়। থ্যালাসেমিয়া একটি আজীবনের রোগ । সুতরাং সারা জীবন এ রোগের চিকিৎসা চালাতে হবে । তবে রোগের তীব্রতা, লক্ষণ ও বয়স অনুসারে বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসার ধরনে পরিবর্তন হতে পারে ।
Author
Publisher Name
ThalsBangla
Publisher Logo

Share With